বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বীরগঞ্জে বিদেশে পাঠানোর নামে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অর্থ ফেরত না পেয়ে গরু নিয়ে যাওয়ায় উত্তেজনা আশুলিয়া বিদেশে পাঠিয়ে প্রতারণা, ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কাতারে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগ, আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার সুজেল কাহারোল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম, জাতীয়করণের আশ্বাস বানারীপাড়ার ব্রাহ্মণকাঠীতে নদীভাঙন কবলিত পরিবারের পাশে এমপি সান্টু, ত্রাণ বিতরণ আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বীরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ব্রিটেনে বিশ্বনাথের ইছমাইল উদ্দিনের ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পালিত কন্যাকে ওয়ারিশ সনদ! বৈধ চার কন্যা বঞ্চিত

আজকের দৃষ্টি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক পালিত কন্যাকে ওয়ারিশ হিসেবে সনদ দেওয়ার অভিযোগে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চার বৈধ ওয়ারিশ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগটি দাখিল করেন দেবীডুবা ইউনিয়নের পেড়ালবাড়ী গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আকলিমা ও রেখা খাতুন। তারা তাদের আরও দুই বোন মিনা ও নাজমা আক্তারের পক্ষে অভিযোগ করেন।

একই সঙ্গে তাদের দাবি, দীর্ঘ তিন মাস ধরে আবেদন করেও তারা নিজেদের নামে ওয়ারিশ সনদ পাচ্ছেন না।

তাদে অভিযোগ দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়ের দিকে। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিও।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তাদের বাবা আব্দুল ওহাব ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি এবং মা হাজেরা বেগম একই বছরের ২৪ মার্চ মারা যান। তাদের মৃত্যুর পর ৪ কন্যাই বৈধ ও আইনগত ওয়ারিশ। কিন্তু প্রায় তিন মাস আগে ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করার পরও চেয়ারম্যান তাদের সনদ না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাচ্ছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এরই মধ্যে ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান পালিত কন্যা খাদিজা বেগমকে মৃত আব্দুল ওহাব ও হাজেরা বেগমের কন্যা এবং ওয়ারিশ হিসেবে উল্লেখ করে একটি ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করেন। তাদের ভাষ্য, প্রচলিত আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পালিত সন্তান পালিত পিতামাতার সম্পত্তির আইনগত ওয়ারিশ নন। এছাড়া ওই সনদে মৃত্যুর কয়েক মাস পরও হাজেরা বেগমকে জীবিত দেখিয়ে ওয়ারিশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

রেখা খাতুন বলেন, “আমরাই আমাদের বাবা-মায়ের প্রকৃত ও বৈধ ওয়ারিশ। অথচ আমাদের বাদ দিয়ে পালিত বোনকে ওয়ারিশ দেখিয়ে সনদ দেওয়া হয়েছে। গত তিন মাস ধরে চেয়ারম্যানের কাছে গেলেও তিনি কখনো বলেন আগে একটি সনদ দেওয়া হয়েছে, আবার কখনো বলেন নতুন সনদ দিলে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।

অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া ওয়ারিশ সনদের অনুলিপিতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর ইস্যুকৃত সনদে আব্দুল ওহাবের ওয়ারিশ হিসেবে স্ত্রী হাজেরা বেগম, কন্যা মিনা, আকলিমা, রেখা খাতুন, নাজমা আক্তার এবং খাদিজা বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সনদে চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়ের স্বাক্ষরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন আলীর স্বাক্ষরও রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সুজন আলী বলেন, খাদিজা বেগম ওয়ারিশ সনদের আবেদন করার সময় তার জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম হিসেবে আব্দুল ওহাবের নাম ছিল। এছাড়া স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়ায় তিনি সনদের সুপারিশ করেছিলেন। তবে পরে চার বোন খাদিজা পালিত সন্তান বলে অভিযোগ করলে চেয়ারম্যান তাকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেন। বর্তমানে সেই তদন্ত চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, “খাদিজা যে পালিত, সেটি কীভাবে প্রমাণ করা হবে? আবেদনের ভিত্তিতেই সনদ দেওয়া হয়েছে। মেম্বার সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার পরই আমি সনদে স্বাক্ষর করেছি।

চার বোনের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে একটি ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়েছে। নতুন আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মেম্বারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102