বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার সুজেল কাহারোল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম, জাতীয়করণের আশ্বাস বানারীপাড়ার ব্রাহ্মণকাঠীতে নদীভাঙন কবলিত পরিবারের পাশে এমপি সান্টু, ত্রাণ বিতরণ আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বীরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ব্রিটেনে বিশ্বনাথের ইছমাইল উদ্দিনের ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন নরসিংদীর মাধবদীতে প্রায় দুই কোটি টাকার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে দিলেন প্রশাসন সুন্দরগঞ্জে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আশুলিয়ায় জামায়াতের দোয়া ও স্মরণ সমাবেশ

আশুলিয়ায় ফের চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: ৯৯৯-এ ফোনে রক্ষা, চালক-হেলপারসহ গ্রেপ্তার ৩

আজকের দৃষ্টি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকার আশুলিয়ায় গভীর রাতে প্রায় ফাঁকা একটি চলন্ত বাসে ফের নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে চালক, হেলপার ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে বাসের অন্য সব যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা যুবককে মারধর করে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং দুই অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। পরবর্তীতে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় পলাতক বাসচালককেও।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, পিপিএম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মুসফিকুর রহমান জনি (২০), সুমন প্রামাণিক (৩০) এবং বাসচালক ইমরান (৩৫)।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগী নারী তার পরিচিত মো. রুবেল (২৭)-কে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আশুলিয়ার নবীনগরের উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহন-এর একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৭৪) যাত্রা করেন।

রাত প্রায় আড়াইটার দিকে বাসটি নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বিভিন্ন স্থানে একে একে অন্য সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসে কেবল ভুক্তভোগী নারী ও তার সঙ্গী রুবেলকে রেখে চালক ইমরান, হেলপার মুসফিকুর রহমান জনি এবং তাদের পূর্বপরিচিত সহযোগী সুমন প্রামাণিক পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে মারধর করে। পরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলন্ত বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর বাসচালক ইমরান বাস থেকে নেমে গেলে হেলপার জনি, সুমনের সহায়তায় চলন্ত বাসের ভেতর নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। সেই ফোনকলের ভিত্তিতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশুলিয়া থানা পুলিশ বাসটি আটক করে, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং জনি ও সুমনকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়।

পরে ভুক্তভোগী আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর আশুলিয়া থানার এসআই শামীম আল মামুন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে পলাতক বাসচালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলন্ত বাসে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ ঘটনাটি নতুন করে গণপরিবহনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাতের পরিবহনে নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যাত্রীশূন্য করে নারী যাত্রীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে পূর্বপরিকল্পনা বা সংঘবদ্ধ অপরাধের কোনো উপাদান রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, পিপিএম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই চৌকস কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই ইতিহাস পরিবহনের একটি বাসে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছিল আশুলিয়া থানা পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সাভার পরিবহনের একটি বাসকে ঘিরে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে তদারকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102