
বিরহ কবি: মোঃ খাইরুল ইসলাম
সখের প্রবাস বলে যারা দূর থেকে চেয়ে রয়,
তারা তো জানে না—এই জীবনে কতটা কান্না রয়।
রঙিন দালান, চকচকে গাড়ি—দূর থেকে লাগে ভালো,
ভেতরে ভেতরে নিভে যায় কত প্রবাসীর বুকের আলো।
সোনার হরিণ ধরতে এসে খাঁচায় বন্দি প্রাণ,
যন্ত্রের মতো খাটতে খাটতে ফুরিয়ে যায় গান।
সখের জীবন নয় রে বন্ধু, এ যেন মরুভূমি,
যেখানে ঝরে শুধু ঘাম আর কষ্ট—বোঝে না কেউ তুমি।
টাকার এপিঠে লেখা থাকে কত বিনিদ্র রাত,
ওপিঠে লুকানো থাকে আপনজন ছোঁয়ার আকুল হাত।
সবাই শুধু হিসাব খোঁজে—কত পাঠালি দেশে,
কেউ তো বলে না, “কেমন আছিস ক্লান্ত দিনের শেষে?”
ঈদ আসে, ঈদ চলে যায় একলা ঘরের কোণে,
কান্না চেপে হাসতে হয় মায়ের সঙ্গে ফোনে।
সখের প্রবাস নামেই শুধু, আসলে এ এক ফাঁদ,
পরের দেশে বিক্রি করে দিতে হয় নিজের সুখের চাঁদ।
স্ত্রী-সন্তান, পুত্র-কন্যা, কত আপনজন,
সবাইকে ছেড়ে যেতে হয়—বুকে নিয়ে বিষণ্ন মন।
পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে দিন-রাত পরিশ্রম,
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে চালিয়ে যেতে হয় সংগ্রাম।
কেউ রাখে না খবর ভাই, দিন শেষে কত আবদার,
ছেলে বলে—“বাবা, আমার জন্য আনবে নতুন মোবাইল একবার?”
মেয়ে বলে—“বাবা, আমার জন্য কিছু আলতা-পাউডার আনবে,
সঙ্গে একটু মেকআপ আর চানু—আমার জন্য রাখবে?”
স্ত্রী বলে—“ওগো পরানের স্বামী, চাই না কিছু আমার,
শুধু এনে দিও একটা লাল বেনারসি শাড়ি এবার।
সঙ্গে এনো গলায় পরার একটি সুন্দর হার,
তোমার জন্য সাজব আমি—ভরবে সুখে সংসার।”
কিন্তু কেউ কি খোঁজ নেয়, মানুষটা কেমন আছে?
কতটা কষ্ট বুকে নিয়ে প্রতিদিন সে হাসে!
নেই তো খোঁজ তার ক্লান্তির, নেই তো খোঁজ ব্যথার,
শুধু আবদার জমতে থাকে—দিনের পর দিন তার।
হার না মানা এই মানুষটি আবদার সাজায় রোজ,
নিজের সুখ ভুলে গিয়ে আপনজনের সুখই খোঁজ।
হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে রাখে সবার শখের আবদার,
এই তো হলো সখের প্রবাস জীবন—
যেখানে হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অশ্রুধার।