
নিজস্ব প্রতিনিধি
‘ভূমি অফিস মানেই দীর্ঘসূত্রতা, ফাইলের জট আর সেবাগ্রহীতাদের নানা ভোগান্তি’—এমন প্রচলিত ধারণার বিপরীতে জনবান্ধব ও সহজীকৃত ভূমি সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ঢাকা জেলার আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন আশুলিয়া ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং নাগরিকসেবা সহজীকরণে ভূমিকা রাখায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেরা ভূমি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আবুল কালাম আজাদ সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অযথা সময়ক্ষেপণ কমিয়ে দ্রুততার সঙ্গে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ভূমি সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল ভূমি সেবা কার্যক্রমের আওতায় ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়সহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজ ও গতিশীল করতে ভূমিকা রেখেছেন।
আশুলিয়া ঘনবসতিপূর্ণ ও দ্রুত নগরায়িত এলাকা হওয়ায় এখানে ভূমি সংক্রান্ত সেবার চাপও তুলনামূলক বেশি। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ানসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ভূমি অফিসে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমানো এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দ্রুত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ গুরুত্ব পেয়েছে।
আবুল কালাম আজাদের কার্যক্রমের অন্যতম দিক ছিল ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি সেবা ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করা। বিশেষ করে ই-নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ক্ষেত্রে নাগরিকদের প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমিয়ে সেবা সহজ করার উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনসেবা দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে ভূমি সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর এ স্বীকৃতিকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে একজন কর্মকর্তার কর্মদক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব ভূমিকা সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেরা ভূমি কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ স্বীকৃতি তাঁর দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমি সেবা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাধান করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
এদিকে আবুল কালাম আজাদের এ অর্জনে আশুলিয়া ভূমি অফিসের সহকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মাঠ প্রশাসনে নাগরিকবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের স্বীকৃতি কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও জনমুখী ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে। ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দ্রুততা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।