
দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: গৌরাঙ্গ বিশ্বাস
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, চুরি-ছিনতাই, কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, “মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” কোনো মাদক কারবারি কিংবা মাদকসেবীকে আইনের আওতায় আনা হলে তার পক্ষে কোনো রাজনীতিবিদ বা অন্য কোনো ব্যক্তি যেন সুপারিশ না করেন—এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে সভা ও সেমিনারের আয়োজন করতে হবে। এসব কর্মসূচিতে প্রবীণ ও বয়স্ক ব্যক্তি, গৃহিণী, অভিভাবক, যুবক-যুবতীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইউএনও জানান, এসব সচেতনতামূলক সভায় তিনি নিজে এবং পুলিশ কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।
তিনি আরও বলেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি পুরো সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকদের মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে।
শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ছেলেমেয়েদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যেন অযথা বাজারে ঘোরাঘুরি না করে, সে বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, লাইসেন্সবিহীনভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত রাখতে হবে। একই মোটরসাইকেলে দুইয়ের অধিক কিশোর বা যুবক ওঠার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ছিনতাই বন্ধ, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রুহুল আমিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহা. বাবুল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ.ন.ম. রাকিবুল ইউসুফ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোসা. তারজিনা খাতুন, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল কাদির, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা, একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মহিদুল ইসলাম, উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলেটর এম এ মতিন, গ্রাম আদালত ও উপজেলা সমন্বয় কর্মী মোসা. লায়লা খাতুন এবং উপজেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মো. আল আমিন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য মো. সাইদুর রহমান মন্টু, দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান আয়নাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ রেজাউল করিম, জার্জিস হোসেন সোহেল ও গোলাম মর্তুজা, দুর্গাপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মন্ডল, দুর্গাপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান লাল্টু এবং ১ নম্বর নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাদ আলী সরদার।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে দুর্গাপুর উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।