
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দীর্ঘদিন পর একটি ব্রিজের সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও, সেই কাজের জন্য নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো বৈধ বালুমহাল বা ইজারা ছাড়াই নদী থেকে বালু তুলে সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের একটি খালের ওপর প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ব্রিজটি। ব্রিজ নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা। এমনকি ব্রিজে ওঠানামার জন্য মই ব্যবহার করতে হতো।
এ নিয়ে সম্প্রতি আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর ব্রিজটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এতে স্বস্তি ফিরলেও কাজ শুরুর পরই নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর তীরভাঙন বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হলে ভবিষ্যতে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বৈধতা এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি পিআইওর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে পারি না। অবৈধ কোনো কাজের অনুমতি দেওয়ারও সুযোগ নেই।”
দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ কমাতে শুরু হওয়া সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তাহলে এর দায়ভার কার—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।